সোনারগাঁয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বেহালদশা : জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান, নেই সংস্কারের উদ্যোগ | আলোকিত প্রতিদিন

সোনারগাঁয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বেহালদশা : জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান, নেই সংস্কারের উদ্যোগ

এরশাদ হুসাইন অন্য, সোনারগাঁও (নারায়নগঞ্জ) : শিক্ষার মান উন্নয়ন হলেও এখনও উন্নয়ন হয়নি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর। দেখা গেছে, উপজেলার একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনের জরাজীর্ণ ও পরিত্যাক্ত শ্রেণী কক্ষেই চলছে শিক্ষা কারযক্রম। দিন দিন ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় রুম সংকটে পরেছেন শিক্ষকরা। উপজেলার একটি পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়নের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়েরই বেহালদশা। অধিক ছাত্রছাত্রীর তুলনায় শ্রেণী কক্ষ কম এবং জরাজীর্ণ থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসম্মত পাঠদানে ব্যাহত হচ্ছেন শিক্ষকরা। উপজেলায় ১১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও কোনোটিতেই নেই পর্যাপ্ত পরিমান শ্রেণী কক্ষ, বেঞ্চ ও টয়লেট। উপজেলার সবগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের প্রয়োজন হলেও এর মধ্যে ৩৯টি বিদ্যালয়েই জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজন নতুন ভবন নির্মাণ, ২০টি বিদ্যালয়ে অতি জরুরী প্রয়োজন টয়লেট, ২৬টি বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষের বেঞ্চ, ২১টি বিদ্যালয়ের মেরামত করা, ৩২টি বিদ্যালয়ের মাটি ভরাট এবং রাস্তার পাশের বিদ্যালয়গুলোতে বাউন্ডারী দেওয়া খুবই জরুরী হয়ে পরেছে। একাধিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে দরজা-জানালা ভাঙা, বৃষ্টির পানিতে ক্লাসরুম ভিজে যাচ্ছে। অনেক মাঠই তলিয়ে থাকতে দেখা গেছে, পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। এ অবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে পুরনো বিদ্যালয়ের পাশে এবং ঝুকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনগুলো ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিবাকরা। জরুরী ভিত্তিতে ভবন নির্মাণ প্রয়োজন এমন বিদ্যালয়গুলো হলো, ১নং আমগাঁ বরগাঁ স.প্রা.বি, ২নং বরাব স.প্রা.বি, ৭নং গজারিয়াপাড়া স.প্রা.বি, ৮নং বেহাকের স.প্রা.বি, ১০নং কুশাব বাঘরী স.প্রা.বি, ১১নং কুতুবপুর স.প্রা.বি, ১৬নং জামপুর মাঝের চর স.প্রা.বি, ১৭নং মহজমপুর স.প্রা.বি, ১৮নং মুছারচর বালক স.প্রা.বি, ২৩নং কদমতলি স.প্রা.বি, ২৬নং ভৌমিকপাড়া স.প্রা.বি, ৩০নং পরমেশ্বরদী স.প্রা.বি, ৩৩নং মছলন্দপুর স.প্রা.বি, ৩৬নং দলরদী স.প্রা.বি, ৩৭নং গোয়ালপাড়া স.প্রা.বি, ৩৮নং ভটেরকান্দি স.প্রা.বি, ৪৩নং নীলকান্দা স.প্রা.বি, ৪৬নং মারবদী স.প্রা.বি, ৪৭নং ঈমানের কান্দি স.প্রা.বি, ৫০নং কাইকারটেক স.প্রা.বি, ৫২নং সোনাখালী স.প্রা.বি, ৫৩নং পাঁচপীরদরগা স.প্রা.বি, ৫৪নং কালিগঞ্জ স.প্রা.বি, ৬০নং রাইজদিয়া স.প্রা.বি, ৬১নং তাজপুর স.প্রা.বি, ৬৪নং খংসারদি স.প্রা.বি, ৬৫নং পঞ্চবটী স.প্রা.বি, ৬৬নং হাড়িয়া স.প্রা.বি, ৬৮নং চেঙাকান্দি স.প্রা.বি, ৭৭নং সম্ভুপুরা স.প্রা.বি, ৮৪নং আলগীরচর স.প্রা.বি,  ৯৪নং সোনারগাঁ জি,আর স.প্রা.বি, ১০০নং চৌড়াপাড়া (নোয়াগাঁও) স.প্রা.বি, ১০৫নং উলুকান্দি স.প্রা.বি, ১০৬নং হামছাদী স.প্রা.বি, ৯৯নং ফুলদী স.প্রা.বি, ৯২নং সাদিপুর চৌরাপাড়া  স.প্রা.বি, ১১২নং দামোদরদী স.প্রা.বি এবং ১১৩নং টেঁকপাড়া স.প্রা.বি।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পৌরসভার ৬০নং রাইজদিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩টি ভবনের মধ্যে ২টি ভবনই পরিত্যক্ত। আর একটি ভবনের দুটি রুমে চলছে পাঠদান। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সিরাজুম মনিরা বলেন- আমাদের স্কুলে তিনটা ভবন আছে তিনটা ভবনের মধ্যে একটা ভবন কোন রকমে ভালো আছে আর দুইটা ভবন একেবারেই পরিত্যক্ত তার মধ্যে একটা একেবারেই ভাঙা। বৃষ্টি আসলে সব দিক দিয়েই পানি পরে, জানালা গুলোও ভাঙা একটার মধ্যে কোন ক্লাস চলেনা এতোটাই পরিত্যক্ত যে, কোন ক্লাস চলার মতোনা। আরেকটার মধ্যে ক্লাস চলে কোন ভাবে। আমাদের স্কুলের টয়লেটের অবস্থা খুবই খারাপ, ব্যবহার যোগ্যনা তবুও বাচ্চারা সেখানে যায় কারন এ ছাড়া আর কোন উপায় নেই। ক্লাস রুমের বেঞ্চের অবস্থাও খুবই খারাপ। উপজেলার ৫৭নং ভট্রপুর মডেল স.প্রা.বি এর প্রধান শিক্ষিকা বি,আর,বিলকিস জানান- আমাদের স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক বেশি বর্তমানে ৮শত ৪৫জন ছাত্রছাত্রী পাঠদান করছেন। তিনি বলেন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন টয়লেট ও বেঞ্চ এবং শ্রেনীকক্ষ সংকটের কারনে ক্লাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। অতি দ্রুত আমাদের এখানে নতুন ভবনের প্রয়োজন। মোগরাপাড়া ইউনিয়নের, ৫২নং সোনাখালী স.প্রা.বি, এর প্রধান শিক্ষিকা মাফরুজা বেগম বলেন, ১৯৮৬-৮৭ সালের একটি ভাঙা বিদ্যালয়ের রুমে বাধ্য হয়ে আমাদের ক্লাস নিতে হচ্ছে, বৃষ্টি আসলে পানিতে রুম প্লাবিত হয়ে যায়। আরেকটি ভবন ২০০৬-৭ সালে হলেও এটিরও   দরজা,জানালা ভাঙা, বেঞ্চ নেই, টয়লেটের অবস্থা খুবই খারাপ এবং বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাট করা খুবই জরুরী। একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানালেও কোন ফল পাওয়া যায়ানি। উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, উপজেলার ১১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে যেই বিদ্যালয় গুলোতে সবচেয়ে বেশি জরুরী নতুন ভবন, টয়লেট, বেঞ্চ, মাঠের মাটি ভরাট ও মেরামত করার প্রয়োজন আমরা একটা তালিকা তৈরি করেছি এগুলোর কাজ সম্পুর্ণ হলে পর্যায়ক্রমে বাকি গুলোর কাজও করা হবে। কর্মকর্তা আরো বলেন, অন্যান্য উপজেলার তুলনায় সোনারগাঁয়ে জরাজির্ণ ও খুবই নাজুক অবস্থা এরকম বিদ্যালয় কমই আছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, ঝুকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ বিদ্যালয় গুলোর একটা তালিকা তৈরি করেছি ইতি মধ্যে অগ্রাধিকার ভিওিতে ২৮টি বিদ্যালয়ের সংস্কারবাদ ২লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ পেয়েছি আগামী কিছু দিনের মধ্যে কাজ শুরু করে দিবো। পর্যায়ক্রমে সব গুলো বিদ্যালয়েরই সংস্কার করা হবে। তবে যে সমস্ত বিদ্যালয়ে ভবন প্রয়োজন সেখানে নতুন ভবনও নির্মাণ করা হবে।
আলোকিত প্রতিদিন/৪ মে’১৯/জেডএন
এই সংবাদ ১৯০ বার পঠিত।
ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন