কলাপাড়ার মহিপুরে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপুর্ন | আলোকিত প্রতিদিন

কলাপাড়ার মহিপুরে স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ভবন মারাত্মক ঝুঁকিপুর্ন

Spread the love

রাসেল কবির মুরাদ: কলাপাড়ার মহিপুরে উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। বেরিয়ে এসেছে মরিচা ধরা লোহার রড। বিমের অবস্থাও খুব খারাপ। বিম ফেটে রড বেরিয়ে রযেছে। এমন ঝুকিঁপুর্ন ভবনে চলছে চিকিৎসা-সেবা। এই অবস্থায় রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসকেরাও আতঙ্কে থাকছেন।

সরেজমিনে মহিপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র গিয়ে জানা গেছে, ৫৬শতাংশ জমি নিয়ে ১৯৫০ সালে মহিপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি প্রতিষ্টিত হয়। প্রথম দিকে টিন সেটের ঘর ছিল। এর পর ১৯৯৫ সালে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশলী অধিদপ্তর দ্বিতল ভবনটি নির্মান করে। তাদের অভিযোগ, ভবনটি নির্মানে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করায় মাত্র ২৪ বছরের মধ্যেই এটি জরাজীর্ন হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মালামালসহ ঔষধপত্র। এই জরাজীর্ণ ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে নিভৃত পল্লী গ্রামের সাধারন মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। ভবনটিতে চিকিৎসা সেবা তো দুরের কথা এখন ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ হাসপাতালে কাগজে কলমে এমবিবিএস একজন, এসপি আই একজন, এফ ডব্লিই পাঁচজন যারা গ্রামে ঔষধ বিতরন করে, মেডিকেল(ফার্মা) একজন, নাইট গার্ড একজন, আয়া একজন পদ শুন্য রয়েছে। কিন্তু কর্মরত আছেন এফ ডবিøউবি একজন, নাস একজন, মেডিকেল এসিষ্ঠান-এস,এ,সি,এম,ও একজন। রয়েছে বেড সমস্যা। বেড রয়েছে মাত্র দুইটি। এখানে শুধু নরমাল ডেলিভারী দেয়া হয়। উপকুলীয় মৎস্য বন্দর মহিপুর-আলীপুর জেলে ও গর্ভবতী মা স্বাস্থ্য সেবা পেয়ে থাকে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকে এই চিকিৎসাসো কেন্দ্র থেকে। বেশি রোগীর হলে তাদেরকে বেড দেয়া যায়না। ফলে গরিবও অসহায় রোগীরা সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাচ্ছেনা। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়ছে গর্ভবর্তী মা ও শিশুরা। গর্ভবর্তী মায়েদের দুর্ভোগের শেষ নেই। এতে ঝুঁকির মধ্যে থাকে মা ও পেটের শিশুচিকিৎসা না পেয়ে সন্তান জন্মদানের সময় নানা জটিলতায় মারা যান অনেক মা ও তার নবজাতক সন্তান। এমবিবিএস ডাক্তার না থাকায় রোগীরা সঠিক ভাবে চিকিৎসা পাচ্ছেনা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসা সেবা না পেয়ে তাদের ২২ কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিয়ে কলাপাড়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে। হাসপাতালে এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হলেও বিভিন্ন কারন দেখিয়ে তারা সদর হাসপাতালে চলে আসে। সাগর পাড়ের হতদড়িদ্র জেলে ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ শারীরিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে হাসপতালে চিকিৎসাসেবা নিতে হয়। ডাক্তারসহ জনবল না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিতে এসে রোগীরা বিপাকে পড়েছেন। হাসপাতালে বৈদ্যুতিক পাখা থাকলে ও তা ঘুরছেনা। নেই পর্যাপ্ত বাতি। বিদ্যুৎ চলে গেলে কোনো আলোর ব্যবস্থা থাকেনা।

মনোহরপুর গ্রামের নবিতা রানী নামের এক নারীকে টাইফয়েডে আক্রান্ত তিন মাসের শিশু সন্তান বুকে আগলে নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। । নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক নার্স বলেন, শুধূ রোগীদের ওয়ার্ডের ছাদের অবস্থা খারাপ, বিষয়টি তেমন নয়। তাঁদের বসার কক্ষসহ এই ভবনের প্রায় সব কক্ষের একই অবস্থা।

মহিপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র কর্মরত চিকিৎসক সুদিব কুমারপাল সাংবাদিকদের জানান, মহিপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগ দিলেও কি কারনে মহিপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না বসে তিনি ২০শয্যাবিশিষ্ট্য তুলাতলী হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। এমবিবিএস চিকিৎসক দিলে কিছু দিনের মধ্যে অজুহাত দেখিয়ে অন্য জায়গা চলে যায়।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ চিন্ময় হাওলাদার এ প্রতিনিধিকে জানান, মাসিক সভায় কয়েকবার এইচ,ই ডিকে জানানো হয়েছে যে মহিপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। বেড সমস্যা – বেশি রোগীর হলে তাদেরকে বেড দেয়া যায়না। এ সমস্যা শুধু মহিপুর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নয় এই সমস্যা কলাপাড়া ৫০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালেও আছে ।

আলোকিত প্রতিদিন/১৫ এপ্রিল/আরএ

এই সংবাদ ১৭৫ বার পঠিত।
ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন