সব চেয়ে ঘৃণিত বাবা হিসেবে পরিচিত হলেন 'জেরার্ড স্টোকস' | আলোকিত প্রতিদিন

সব চেয়ে ঘৃণিত বাবা হিসেবে পরিচিত হলেন ‘জেরার্ড স্টোকস’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে সমর্থন দিয়েছেন বেন স্টোকসের বাবা জেরার্ড স্টোকস। জন্মসূত্রে তিনি নিউজিল্যান্ডের নাগরিক। বেন স্টোকস ইংল্যান্ডের হয়ে খেললেও তাঁর জন্মও নিউজিল্যান্ডে দম আটকানো ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে শিরোপা জিতল ইংল্যান্ড। আর শিরোপাটা জেতালেন কিনা নিউজিল্যান্ডের এক ক্রিকেটার!

ম্যাচসেরা হয়েছেন ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। তাঁর জন্ম নিউজিল্যান্ডে। ফাইনালের আগে তাঁর বাবা জেরার্ড স্টোকস জানিয়েছিলেন, এ ম্যাচে ছেলের হার কামনা করতে হবে। জেরার্ড যে মনেপ্রাণে নিউজিল্যান্ডের সমর্থক। শেষ পর্যন্ত বাবার ইচ্ছে পূরণ হয়নি। উল্টো ছেলের অসাধারণ নৈপুণ্যের কাছে হার মেনেছে বাবার ইচ্ছা। শুধু কি তাই, জেরার্ড স্টোকস এখন নিউজিল্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণিত বাবাও!

কারণটা খুব সহজেই অনুমেয়। কাল লর্ডসের ফাইনালে তাঁর ছেলের ৮৪ রানে ভর করে ম্যাচটা শেষ বল পর্যন্ত টেনে নিতে পেরেছে ইংল্যান্ড। সুপার ওভারে ইংল্যান্ড যে ১৫ রান করেছে, তার মধ্যে ৮ রানই স্টোকসের। জেরার্ড তাই কৌতুক করেই কথাটা জানালেন, ছেলে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটপ্রেমীদের স্বপ্ন চূর্ণ করায় তিনি এখন সেখানে সবচেয়ে ঘৃণিত বাবা। ক্রাইস্টচার্চে নিজেদের ঘরে বসে ফাইনাল দেখেছেন স্টোকসের বাবা-মা জেরার্ড ও ডেবোরাহ।

জেরার্ড নিউজিল্যান্ড রাগবি জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড়। দেশটির হয়ে রাগবি টেস্টও খেলেছিলেন একটি। অবশ্য খেলোয়াড় হিসেবে যতটা, তার চেয়েও বেশি নাম কুড়িয়েছিলেন কোচ হিসেবে। খুব স্বাভাবিকভাবেই কালকের ফাইনালে তাঁর জন্মভূমিকে সমর্থন করার কথা। ডেবোরাহও সমর্থন দিয়েছেন কেন উইলিয়ামসনের দলকে। প্রতিবেশীদের বেশির ভাগ তাঁদের উভয়সংকটের পড়ার বিষয়টি বুঝেও সানন্দে খেলা দেখেছেন একসঙ্গে। তবে দু-একটা কটু কথাও শুনতে হয়েছে জেরার্ডকে। নিউজিল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ওয়ান নিউজকে সেসব কথা কৌতুকের সুরেই বলেছেন জেরার্ড, ‘দু-একজন বলেছে, এ মুহূর্তে আমি নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে ঘৃণিত বাবা। তবে কেউ সীমা ছাড়ায়নি বলেই মনে হয়।’

ম্যাচ শেষে আবেগে কেঁদেছেন স্টোকসের মা ডেবোরাহ, ‘খেলা শেষে খুব কেঁদেছি। ব্ল্যাক ক্যাপসের জন্য খারাপ লেগেছে। এটা ড্র হলে সবচেয়ে ভালো হতো।’ বেন স্টোকস ইংল্যান্ডে থিতু হলেও তাঁর বাবা-মা ২০১৩ সাল থেকে ক্রাইস্টচার্চে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। জেরার্ড এখন ক্রাইস্টচার্চে ছেলেদের জেলখানায় কনস্ট্রাকশন প্রোগ্রাম সুপারভাইজার। ছেলের জয় আর নিজের পছন্দের হার নিয়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ব্ল্যাক ক্যাপসদের জন্য সত্যি খারাপ লাগছে। তবে বেনের জন্য আনন্দে আত্মহারা হলেও আমি এখনো নিউজিল্যান্ডেরই সমর্থক। এটা আমার দেখা অন্যতম সেরা ক্রিকেট ম্যাচ। নাটকীয় সব রকম উপাদানই ছিল।’

সুপার ওভারেও ম্যাচ টাই হওয়ার পর বেশি বাউন্ডারি মারার নিয়মে ভর করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। জেরার্ড স্টোকস প্রশ্ন তুলেছেন এ নিয়ম নিয়ে, ‘সিদ্ধান্ত নিতে ওটা (বাউন্ডারি নিয়ম) এত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়নি। শিরোপাটা ভাগ করে নেওয়া যেত, যদিও এখন আর এসবের প্রচলন নেই।’

বেন স্টোকসের জন্ম আর শৈশবের পুরোটাই কেটেছে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে। তাঁর বাবা নানা জায়গায় কোচিং করিয়ে ডাক পান ইংল্যান্ডের ওয়ার্কিংটন টাউন রাগবি লিগ ক্লাবের কোচ হতে। সে ডাকে সাড়া দিয়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান জেরার্ড, সঙ্গে পুরো পরিবার। ফলাফল হিসেবে নিউজিল্যান্ডের বেন স্টোকস হয়ে যান ইংল্যান্ডের। ১৬ বছর হলো ইংল্যান্ডে বসবাস করছেন স্টোকস।

আলোকিত প্রতিদিন/জুলাই/১৫/এমএ

এই সংবাদ ১২১ বার পঠিত।
ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন