জোরপূর্বক বাস্তত্মচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক, সাজাপ্রাপ্ত ও ফেরারী আসামী, দাগী অপরাধীদের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট সরবরাহ করে পাসপোর্ট গ্রহণে সহায়তাকারী চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-২। | আলোকিত প্রতিদিন

জোরপূর্বক বাস্তত্মচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক, সাজাপ্রাপ্ত ও ফেরারী আসামী, দাগী অপরাধীদের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট সরবরাহ করে পাসপোর্ট গ্রহণে সহায়তাকারী চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-২।

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক: অদ্য ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খৃঃ দুপুর ৩ টা হতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের পাশে তিনটি দোকানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় সংগৃহীত জন্ম সনদ সহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-০২। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে জন্ম সনদ তৈরির উপকরণ। বুধবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে র‌্যাব-২। এসময় সিটি কর্পোরেশন, ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সীল, সনদের হার্ড কপি ও সফট কপির হার্ডডিস্ক উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছেন, ৫ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা বিনিময়ে সিটি করপোরেশন ও দেশের বিভিন্ন জেলার বেশ ক’টি ইউনিয়ন পরিষদের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে জোরপূর্বক বাস্তÍচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক, সাজাপ্রাপ্ত ও ফেরারী আসামী, দাগী অপরাধী, বয়স কম-বেশী দেখিয়ে বিদেশ যাবার জন্য আগ্রহী লোকজন এর নামে জন্ম সনদ তৈরী করে দেয়া হতো। পরবর্তীতে তারা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলে পাসপোর্ট আবেদনকারীদের জন্ম সনদের তথ্য ভান্ডারে থাকা তথ্যের মিলে পেলে পাসপোর্ট পেয়ে যেতো। সাজাপ্রাপ্ত আসামী তার নাম, বাবার নাম, বয়স, ঠিকানা পরিবর্তন করে পাসপোর্ট করলে তাদেরকে বিমান বন্দরে আটকানো যেতো না। এভাবে ভুয়া তথ্যে দেশের বেশ ক’টি এলাকা থেকে ১৩/১৪ জন জোরপূর্বক বাস্তÍচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক জন্ম সনদ নিয়েছে। র‌্যাব-২, সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

 আটককৃতরা হলো- নারায়ণগঞ্জের ফজলুল করিম (৩৩), সাইফুল ইসলাম (২৪) ও আজিম হোসেন (২৬), নেত্রকোনার একটি ইউপির উদ্যোক্তা সদস্য মামুন মিয়া (৩৫), ঢাকার একটি সিটি কর্পোরেশন এর মাঈন উদ্দিন(৩৮) ও জাহাঙ্গীর (৩৬)।

 অভিযানকালে আসামীদের নিকট হতে জব্দকৃত ও তাদের কম্পিউটারে রক্ষিত এসব জন্ম সনদ নিবন্ধিত অর্থাৎ আসল। যাদের নামে জন্ম সনদগুলো তৈরী করা হয়েছে সেই সনদ জন্ম সনদ গ্রহণকারী লোকগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা নন। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও উদ্যোক্তা সদস্য, সিটি করপোরেশনের নিবন্ধন কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা পরিষদ ও বিভিন্ন উপজেলা পরিষদের জন্ম মৃত্যু রেজিষ্ট্রেশন কার্যালয়ের কর্মচারীদের যোগসাজশে জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট ন্যাশনাল সার্ভার হতে তৈরী করে সরবরাহ করতো। এদের নিকট হতে জব্দকৃত কম্পিউটার ও ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক চেক করে আমরা প্রচুর জন্ম সনদ ও অনেক হার্ড কপি পেয়েছি যার পরিমাণ ২৫০০০ এর অধিক। এরা আবার জোরপূর্বক বাস্তÍচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদেরকেও এসব জন্ম সনদ তৈরী করে দিয়ে পাসপোর্ট তৈরীতে সহায়তা করে। ইতিমধ্যে তারা ১৩/১৪ জন জোরপূর্বক বাস্তÍচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক কে জন্ম সনদ তৈরী করে পাসপোর্ট করে দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করার পর সে রকম তথ্য প্রমাণ জব্দ করেছেন। ধৃত আসামীদের নিকট হতে অবৈধভাবে জন্ম সনদ প্রদান কার্যে লেনদেনকৃত দুই লক্ষাধিক টাকা, ৪ টি ল্যাপটপ ও প্রচুর সরঞ্জামাদি জব্দ করেছে র‌্যাব।

প্রতারক চক্রের অপরাপর সহযোগী সদস্যদের গ্রেফতারে র‌্যাব এর অভিযান অব্যাহত আছে। উক্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আলোকিত প্রতিদিন/সেপ্টেম্বর/১২/এসএম

এই সংবাদ ৬৪ বার পঠিত।
ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন