মুস্তফা জামান আব্বাসী । শাহেদ আলী : যতটুকু চিনি  | আলোকিত প্রতিদিন

মুস্তফা জামান আব্বাসী । শাহেদ আলী : যতটুকু চিনি 

Spread the love

শাহেদ আলী: যতটুকু চিনি 
মুস্তফা জামান আব্বাসী

অধ্যাপক শাহেদ আলীর নাম উচ্চারিত হলেই আমার কেনো যেন মনে হয়, এই প্রখর ব্যক্তিত্বের অধিকারী মানুষটিকে আমরা যথাযথ মূল্য দিতে পারি নি। এখনো তিনি আমাদের অনেকের নিকটই খানিকটা অজানা রয়ে গেছেন। তাকে দেখতাম প্রায়ই আমার আব্বার কাছে এসে বসে থাকতেন। কি ছিল তাদের আলাপচারিতা, জানতে পারি নি। পরে যখন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, অনুবাদক, ইসলামি চিন্তাবিদ এই মানুষটির সঙ্গে পরিচয় হল, ধীরে ধীরে আমার মধ্যে বিকশিত হয় তার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। সেই থেকে আজকের লেখা।

আমাদের সাহিত্যাঙ্গনে যে ক’জন স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব তাদের কাজের মাধ্যমে তাদের জায়গা করে নিয়েছেন, তিনি হলেন আজকের আলোচ্য ব্যক্তিত্ব: শাহেদ আলী। তার লিখিত ‘জিব্রাইলের ডানা’ অনেকবার পড়ার পরও তার খুব বেশি কাছে আসতে পারি নি। তাঁর বোধ ছিল অনেক গভীরে। এই গল্পের সংকলনটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়। তখন আমি স্কুলের ছাত্র। আব্বাকে উপহার দেয়া, এই বইটি আমার কাছে অনেক দিন ছিল। এতে ছিল সাতটি গল্প। ঐ যে নীল আকাশ, ফসল তোলার কাহিনী, নানির ইন্তেকাল, এলোমেলো, পোড়া মাটির গন্ধ, আতসী ও জিব্রাইলের ডানা। জিব্রাইলের অনেকগুলো ডানা, যেগুলো আকাশে খুঁজতাম। কোথাও পাই নি।

শাহেদ আলী আমাদের অগ্রজ, যার জন্ম ২৬শে মে, ১৯২৫ সুনামগঞ্জ জেলার মাহমুদপুর গ্রামে, তিনি কি করে ঐ ডানার সন্ধান পেলেন? সবাই পায় না, যারা আল্লাহ্র রহমতে সিক্ত, তারা পেয়ে যান। আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে তিনি তার অফিসে যেতেন পায়ে হেঁটে। আর প্রায় রোজই আমার সালাম পেতেন। আমার জন্ম ১৯৩৭ এ। তাই বয়সের দূরত্ব থাকলেও অত্যন্ত আদর করে আমাকে কাছে টানতেন। অবিস্মরণীয় ছোটগল্প ‘জিবরাঈলের ডানা’ আইএ ও বিএ ক্লাশে পাঠ্য হয়, যখন আমি সেন্ট গ্রেগরী স্কুলে পড়ি। ইংরেজি রুশ ও আরও কয়েকটি ভাষায় অনুদিত হয় এই গ্রন্থটি। কেন?

তা জানতে হলে শাহেদ আলীর জীবনকে স্পর্শ করতে হয়। ‘সবুজ পাতার’ সম্পাদক, তাৎক্ষণিক কবিতার কবি, যিনি এক নিঃশ্বাসে বলে যেতেন আর সৃষ্টি হত একেকটি অনবদ্য কবিতা। তার স্মৃতিতে উদ্ভাসিত সংকলন গ্রন্থ ‘বহুমাত্রিক’-এর সকল লেখাগুলো আরেকবার পড়লাম। তাঁর বিদুষী স্ত্রী চেমন আরা সম্পাদিত বইটিতে যারা লিখেছেন তারা বাংলার শ্রেষ্ঠ মানুষ। আমি বিশেষ কিছু যোগ করতে পারব না। শুধু এইটুকু বলতে পারব যে, তার রেখে যাওয়া সাহিত্যকর্ম যদি আমরা মন দিয়ে পড়ি, তা হলে আমরা উপকৃত হব। লেখাগুলো একসঙ্গে পাওয়া খুব জরুরি। নজরুলের অনেক গান হারিয়ে গেছে। তেমনি আব্বাসউদ্দিনেরও। আমাদের গানের তো কথাই নেই। যা হারিয়ে যায়, তা পাওয়া যায় না। ‘জিব্রাইলের ডানা’ যেন হারিয়ে না যায়।

লেখক-সাহিত্য-সংগীত ব্যক্তিত্ব

 

আলোকিত প্রতিদিন/০৮ নভেম্বর/আরএ

এই সংবাদ ৩৮৬ বার পঠিত।
ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন