অস্ট্রেলিয়ার ডার্লিং নদী মৃত মাছের চাদরে আবৃত | আলোকিত প্রতিদিন

অস্ট্রেলিয়ার ডার্লিং নদী মৃত মাছের চাদরে আবৃত

Spread the love

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তীব্র তাপপ্রবাহ না বিষের জ্বালা— কারণটা স্পষ্ট নয়, তবে অস্ট্রেলিয়ার ডার্লিং নদীতে লাখ লাখ মৃত মাছ দেখে ঘুম উড়েছে প্রশাসনের। ছোট, বড়, মাঝারি মিলিয়ে নদীজুড়ে ভেসে রয়েছে মৃত মাছ। নদীর এ পাড়, ও পাড় মিলিয়ে যতদূর চোখ যায় সাদা। রক্তশূন্য, ফ্যাকাসে মাছের মৃতদেহগুলো যেন চাদরের মতো আবৃত করে রেখেছে গোটা নদীটাকেই। রিপোর্ট বলছে, গত এক সপ্তাহে লক্ষাধিক মাছের মৃত্যু হয়েছে নদীতে।

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে প্রায় ১,৪৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর সবটাই জুড়ে রয়েছে মৃত মাছের সারি। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রথম একটা, দু’টো মরা মাছ জলে ভেসে উঠতে দেখা গিয়েছিল। তার মধ্যে মাঝারি গোল্ডেন পার্চ যেমন ছিল, তেমনি বড় শিকারি মাছ মুরে কডও ছিল। ধীরে ধীরে সেই সংখ্যাটা বাড়তে থাকে। সপ্তাহ ঘুরতেই দেখা যায়, নদী পুরোপুরি ঢেকে গেছে মরা মাছে। এর আগে রাজ্যের দক্ষিণে অবস্থিত লেক হিউমে ১৮০০-রও বেশি মাছ মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।

নিজের ছোট্ট বোটে চেপে নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন বছর বত্রিশের গ্রেম ম্যাকক্র্যাব। বলেন, নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম। একটা ৫০ সেন্টিমিন্টারের গোল্ডেন পার্চ জালে ওঠে। দেখলাম আগে থেকেই মরা। ভালো করে ঠাওর করে দেখি আরও মরা মাছ জলে ভেসে রয়েছে। তার মধ্যে ছোট ছোট বোনি ব্রিমও রয়েছে।

মরা মাছের গন্ধে নাভিশ্বাস ওঠার দশা নদী লাগোয়া শহর মেনিনডির বাসিন্দাদের। ট্যুরিসম অপারেটর রব গ্রেগরির কথায়, চোখের সামনে এমন দৃশ্য অসহনীয়। প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। দুর্গন্ধে ভরে উঠেছে গোটা শহর।

কী কারণে এত মৃত্যু? প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তাপপ্রবাহ চলছে অস্ট্রেলিয়ায়। তাপমাত্রা মাত্রাতিরিক্ত বেশি। অনেক এলাকাই খরার কবলে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা মাছের মৃত্যুর কারণ হতে পারে। প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর জলের নমুনা পরীক্ষা করার কাজ চলছে। দেখা গেছে, জল প্রায় অক্সিজেন শূন্য। একপ্রকার বিষাক্ত শৈবাল বাসা বেঁধেছে নদীর জলে। মনে করা হচ্ছে সেটা খেয়েও মাছের মৃত্যু হতে পারে।

মেনিনডির জল বিষয়ক মন্ত্রী নিয়াল ব্লেয়ার জানিয়েছেন, নদীর জল পরিষ্কার করার কাজ চলছে। নতুন করে অক্সিজেন সরবরাহ করা হবে নদীতে। তার ব্যবস্থাও পাকা। এই মূহুর্তে মেনিনডি শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলছে তাপপ্রবাহও। এমন পরিস্থিতিতে কী ভাবে মাছের মৃত্যু রোখা যায় সেটা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

আলোকিত প্রতিদিন/২৯ জানুয়ারি/এমকে

এই সংবাদ ২৩৭ বার পঠিত।
ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন