এডিবি থেকে ১১৯ কোটি টাকা ঋণ পাচ্ছে প্রাণ | আলোকিত প্রতিদিন

এডিবি থেকে ১১৯ কোটি টাকা ঋণ পাচ্ছে প্রাণ

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর একটি হোটেলে এডিবি ও সিলভান এগ্রিকালচারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক-এডিবির কাছ থেকে ১১৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা (১৪.২ মিলিয়ন ডলার) ঋণ সহায়তা পাচ্ছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিলভান এগ্রিকালচার লিমিটেড। কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের ব্যবসা সম্প্রসারণ ও এর মাধ্যমে কৃষকদের আয় এবং দক্ষতা বাড়াতে প্রাণ গ্রুপকে এই ঋণ সহায়তা দিচ্ছে এডিবি।

মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে এডিবি ও সিলভান এগ্রিকালচার এর মধ্যে এ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এডিবির দেওয়া অর্থ পটেটো চিপস, পটেটো ফ্লেকস ও পাস্তার নতুন প্রোডাকশন লাইন নির্মাণে ব্যয় করা হবে। নতুন এই প্রকল্পে প্রায় ৪৫০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে যার অর্ধেক হবে নারী। এতে সরাসরি লিঙ্গবৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখবে।

এডিবির ইনভেস্টমেন্ট স্পেশালিস্ট (প্রাইভেট সেক্টর) তুশনা ডোরা বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে কৃষি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে। এই খাতে বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে; যার ফলে দেশের মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ মানুষ কৃষি খাতের সুবিধা ভোগ করছে। তিনি আরও বলেন, কৃষি খাতের উন্নয়নে এডিবি বাংলাদেশে প্রাইভেট সেক্টরে বিনিয়োগের অংশ হিসেবে সিলভান এগ্রিকালচারকে দ্বিতীয়বারের মতো এই ঋণ দিচ্ছে। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে কয়েক হাজার কৃষকের জীবনমান উন্নত হবে ও নারীরা এ কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজেদের দক্ষতা ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ পাবে।

দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল হবিগঞ্জে অবস্থিত প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে পটেটো প্রসেসিং এর নতুন প্রোডাকশন লাইন চালু হলে প্রায় দুই হাজার চুক্তিবদ্ধ কৃষকের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় আলুর নতুন নতুন জাতের উদ্ভাবন, কৃষি জমি বৃদ্ধি ও সিলভান এগ্রিকালচার হতে পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার মাধ্যমে কৃষকদের আয় ৫০ শতাংশ বেড়ে যাবে। এডিবির দেওয়া এ প্রকল্প কৃষি খাতে প্রাইভেট সেক্টরকে প্রথম দেওয়া ঋণের পুনঃ সহায়তায় অংশ। এর আগে, ২০১২ সালে সিলভান এগ্রিকালচারকে লিকুইড গ্লুকোজ, কাসাভা থেকে স্টার্চ তৈরির প্রোডাকশন লাইন নির্মাণে ২৫.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছে এডিবি।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (করপোরেট ফাইন্যান্স) উজমা চৌধুরী ও এডিবির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল ক্রিস্টোফার থেইম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী আহসান খান চৌধুরী, প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা ও বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর চাই লি সহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রাণ গ্রুপ বর্তমানে জুস, বেভারেজ, বেকারি, কনফেকশনারিসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৫০০ ধরনের খাবার সামগ্রী তৈরি করছে। বর্তমানে এ গ্রুপে সরাসরি এক লাখের অধিক কর্মী এবং প্রায় এক লাখ চুক্তিভিত্তিক কৃষক রয়েছে। অন্যদিকে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দারিদ্র্য দূর ও সমৃদ্ধি অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবির বর্তমান সদস্য রয়েছে ৬৭।

আলোকিত প্রতিদিন/২০ মার্চ/আরএ

এই সংবাদ ২৯৮ বার পঠিত।
ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন